Tuesday, November 03, 2009

মেঘমুলুকে

উড়োজাহাজে চড়ার অভিজ্ঞতা আমার এই প্রথম। আর তাই মনে প্রশ্ন জাগে, কবিরা কি প্লেনে চড়েনা? তাহলে সেই অজানা অদেখা অদ্ভূত সুন্দর জগৎ নিয়ে কোনো কবিতা নেই কেনো? প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সুন্দরের অন্বেষণ করাটা কি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়? নিশ্চই কেউ লিখে থাকবে, আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আমাকে জানতে দেয় নি। শুধু জানি যে সেই মুলুকের রূপের ছটা আমায় বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল। মেঘের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় নিচে থেকে দেখা আস্তরণ ধোঁয়ায় রূপান্তরিত হয়। আর যখন সেই বাষ্পের জাল ছিন্ন করে ওপরে উঠে এলে ‌‌: সাদা পেঁজা তুলোর দিগন্তলীন ব্যাপ্তি, আর কত রকম যে তার কারুকায। কোথাও ফুটে উঠেছে এক মস্ত ব্যাঙের ছাতা, কোথাও বা পর্বতমালা, কোথাও ঢেউ খেলানো শুভ্র সমুদ্র। ওপরে পরিষ্কার নীল আকাশ ঝলমল করছে সূর্যালোকে, আর তার প্রভায় প্রজ্জ্বলিত এই মেঘলোক। বহু যূগ আগে কোনো দেবদূত যদি আমাকে এই অচেনা জগৎ দেখাতো, আমি কি ভাবতাম না যে এটাই স্বর্গ?
আর যখন সূর্যাস্ত হয়, তখন স্বর্গ‌‌ নরক মিলে মিশে একাকার। মেঘসমুদ্রের ঢেউ গুলির একদিকে দূরে কোথাও জ্বলতে থাকা আগুনের প্রভা, আর অন্যদিকে জমতে থাকা অন্ধকার। গোধূলীলগ্নের আকাশ, আমি ভেসে যাচ্ছি পুবে আমার মাতৃভূমির উদ্দেশ্যে, আর আকাশের রঙ ক্ষণেক্ষণে গাঢ়তর হচ্ছে। দিগন্তে আগুনের রেখা ক্ষিণ হয়ে আসছে, উপরে তারারা একেএকে দেখা দেয়, আর মেঘলোক বাইরের পুঞ্জিভূত আঁধারে মিলিয়ে যায়।